সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পর্যটন ও ভ্রমণ খাত গত বছর দেশটির অর্থনীতিতে ২৫৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন আমিরাতি দিরহাম বা ৭০ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য অবদান রেখেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম এ অর্থনীতির জিডিপির ১৩ শতাংশ। এসব তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইউএইতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের খরচ ২০২৪ সালের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬২ দশমিক ২ বিলিয়ে ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে দেশীয় পর্যটকদের খরচ ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএইর পর্যটন খাতের গুরুত্বপূর্ণ এ মাইলফলক অর্জনে ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে দ্রুত আত্তীকরণ। দেশটিতে মোবাইল চেক-ইন, এআই-ভিত্তিক সুবিধা, ক্লাউড প্লাটফর্ম ও রিয়েল-টাইম ডাটা বিশ্লেষণসহ স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিচ্ছে।
এসব উন্নত প্রযুক্তি পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক। বিদ্যুৎ খরচে সাশ্রয় কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট সঠিকভাবে পরিমাপ পর্যটন খাতের পরিবেশগত লক্ষ্যের অন্যতম।
এ বিষয়ে দ্য ডিজিটাল হোটেলিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কুতেয়বা আল আলি জানান, প্রযুক্তি গ্রহণ এখন শুধু বৈশ্বিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলানোর পদক্ষেপ নয়, যা অতিথিদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কৌশল।
এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আতিথেয়তা খাতে এসব পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের জন্য দেশটির ১৫০টির বেশি হোটেল টেকসই পর্যটনের মান অর্জন করেছে।